
দিনের পর দিন পাহাড় কেঁটে উজার করছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা,কিন্তু এই সেই পাহাড় যে ইতিহাস স্বরণ করিয়ে দেয় বর্তমানের সামনে পরিবেশ আর সৌর্ন্দয রক্ষায় যার কোন বিকল্প নেই। অথচ দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে চলছে এই পাহাড় কাঁটা যেখানে রয়েছে প্রশাসনের নীরব ভূমিকা। এর ফলে প্রতি বছরই প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের কারনে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও এই বছর ২০১৭ সালেই চট্টগ্রাম, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি রাঙ্গামাটি সব মিলিয়ে প্রায় ২০০ মানুষের প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে এই পাহাড় কাঁটার কারনে। এভাবে বছরের পর বছর ধরে একে একে পাহাড় কেঁটে ধংস করে দেয়ার কারনে পার্বত্য অঞ্চল গুলোর প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্রমশ বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে, কিন্তু এখন যেকেই যদি কঠোর ভাবে এই পাহাড় কাঁটা বন্ধ করা না যায়, তাহলে অচিরেই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে এমনই আশঙ্ক করছনে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দু পাশে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়ী এলাকা কিন্তু এই পাহাড়গুলো কেঁটে সমান করে দেয়া হচ্ছে সরকারি বেসরকারি ও মালিকানা ভিত্তিক বিভিন্ন কর্মকান্ডের জন্য, উন্নয়নের নামে পাহাড় কেঁটে সমতল ভূমি সড়ক ও বসতবাড়ি বাড়ানো হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে পাহাড় কাঁটার মাত্রা বেড়ে যায় দিগুন এ সময় এলাকার প্রভাবশালীরা ছোট ছোট অর্ধশত স্কেবেটর লাগিয়ে পাহাড় কাঁটা শুরু করে দেয় এবং এই মাটি বেশীর ভাগই চড়া দামে বিক্রি করে। বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরর্বিতনে বৃষ্টিপাতের পরিমানও বেঁড়ে গিয়েছে যার ফলে পাহাড়গুলো আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়াও পরিবেশ আন্দোলনকারীদের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে ১২ জুন ২০১৭ মধ্যরাতে তিন র্পাবত্য জেলায় একের পর এক ভয়াবহ ভূমি ধসের ঘটনা ঘটেছে এদের বেশির ভাগই উত্তর দক্ষিনের বিস্তৃত এবং সড়কগুলোর দুই পাশেই পাহাড়। ভূ-তাত্ত্বকি গঠনকে আমলে না নিয়ে এবং সম্ভাব্য ধস রোধের কোন রকম ব্যবস্থা না রেখেই সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশে রয়েছে অসংখ্য আইন তার মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ২০১০ অনুযায়ী পাহাড় কাঁটা একটি আমলযোগ্য অপরাধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠান পাহাড় কাঁটা কিংবা পহাড় নিশ্চিহ্ন করতে পারবে না, করলে ২ বছর কারাদন্ড অথবা ২ লক্ষ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। অন্য দিকে ইমারত নির্মাণে বিধিমালা ১৯৯৬ তে বলা হয়েছে পাহাড় কাঁটার জন্য অবশ্যই পরিবেশ ছাড়পত্র নিতে হবে। আইন পাহাড়কাঁটা ও মোচনের জন্য কঠোর এই নির্দেশনা থাকলেও কোথাও এটি মানা হচ্ছে না। এই বিষয়ে বাংলাদেশে এই পর্যন্ত মোট ১২৯টি মামলা হয়ছে তার মধ্যে ২টি নিস্পত্তি হয়েছে। যারা এর সাথে জড়িত তাদের জরিমানা কিংবা মামলা দায়ের করেও থামানো যাচ্ছে না। এই প্রসঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের জেলা প্রশাসকের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দান করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসনে মঞ্জু। তিনি বলেন অবৈধ ভাবে নির্মিত ঘরবাড়ি বা স্থাপনা নির্মাণে বদ্ধ জনসচতেনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে পাহাড় কাঁটা বন্ধ করতে হবে। তিনি আরো বলেন এর জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় ভিজিলেন্স বাড়ানোর জন্যেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাহাড় আমাদের সম্পদ, দিনের পর দিন এই পাহাড় কেঁটে সম্পদ নষ্ট করে মৃত্যুকে নিমন্ত্রন করা আমাদের কারোরই কাম্য নয় তাই এই পাহাড়কাঁটা রোধে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং যথাযথ আইনের প্রয়োগের প্রয়োজন। কিন্তু সরকারের একার পক্ষে এটা পুরোপুরি ভাবে রোধ করা সম্ভব না। তাই আমাদের বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার লোকজন ও পাহাড়ী জনগোষ্ঠীদের মধ্যে সচতেনতা বৃদ্ধের লক্ষে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে করে তারা এবং যারা পাহাড় কাঁটার সাথে জড়িত তাদের এই পাহাড় কাঁটার কুফল সর্ম্পকে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়। সর্বশেষে কথা হচ্ছে সরকার সহ দেশের বিবেকবান জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে পাহাড়টিলা কাঁটার অনৈতিক কাজ থেকে বিরত থাকার এবং এর ভয়ংকর ফলাফল প্রচার প্রচারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করতে করা হয়তো তাতে করে কিছুটা হলেও পাহাড়কে আমরা বাঁচাতে পারবো সাথে মানুষরে জীবন। সাফিয়া আক্তার (সামিয়া) সাউথইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও বিচার বিভাগ ব্যাচ নং-৩৩