
৫ মে রাত একটা। লিবিয়ার উপকূল থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেবার জন্য একটি ছোট ট্রলারে উঠেছিলেন প্রায় ৯০০ যাত্রী। তিল ধারনের জায়গা ছিল না সে ট্রলারে।
গাদাগাদি করে বসে থাকা ট্রলারের যাত্রীদের দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অবস্থা। এ যাত্রীদের ভিড়ে ছিলেন বাংলাদেশের বাকের হোসাইন। কিভাবে তিনি পৌঁছেছিলেন ইতালি? বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
ট্রলারের সব যাত্রীর মতো হোসাইনের লক্ষ্য ছিল ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে ঢুকবেন।
আর্থিক সচ্ছলতার আশায় স্বপ্নের ইউরোপে পৌঁছতে যে কোন পরিণতির জন্য তৈরি ছিলেন বাকের হোসাইন। তার সামনে নিয়তির দুটো দরজা খোলা ছিল। হয়তো সাগরে ডুবে মৃত্যু নয়তো ইতালিতে পৌঁছানো।
শুধু বাকের হোসাইন নয়, তার মতো আরো প্রায় ২৫০জন বাংলাদেশি ছিলেন সে ট্রলারে।
বাকের হোসাইন বলছিলেন, জীবনে কিছু করতে পারতেছি না। অনেক কষ্ট ছিল বুকে। চিন্তা করলাম একটা ঝুঁকি নিয়ে দেখি। বাঁচলে তো বাঁচলাম, আর মারা গেলে তো কিছু করার নাই।।
ট্রলারটি লিবিয়া উপকূল ছেড়ে আসার ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই উত্তাল সমুদ্রের রূপ দেখে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। জীবনের আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন যাত্রীরা। ভয়ঙ্কর সে যাত্রার কথা আমৃত্যু মনে থাকবে বাকের হোসাইনের।
তিনি বলছিলেন, অনেকে অজ্ঞান হয়ে গেছে। বমি করতেছে। সাগর দেখে অনেকে ভয় পাইছে। মনে হয় নতুন জন্ম নিয়ে আসছি এখানে।
লিবিয়া উপকুল থেকে ট্রলারে যাত্রা শুরুর পাঁচ ঘণ্টা পরে সেটি ইটালির সমুদ্র সীমায় ঢোকে। কিন্তু সেখানে ইটালির উপকূল রক্ষীদের জাহাজের সামনে পড়ে নৌকাটি।
প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর ইতালির উপকূল রক্ষীরা সে ট্রলারের যাত্রীদের বড় জাহাজে তুলে আনা শুরু করে।
প্রায় ৫০০ যাত্রীকে বড় জাহাজে তোলার পর সে কাজ বন্ধ করে দেয় ইতালির উপকূল রক্ষীরা।
১০ ঘণ্টা সমুদ্রে ভাসমান থাকার পর ইতালির সময় রাত তিনটার দিকে একটি বড় জাহাজে তোলা হয় বাকি যাত্রীদের। বর্তমানে ইতালির একটি আশ্রয় শিবিরে আছেন বাকের হোসাইন।
নোয়াখালীর বাসিন্দা বাকের হোসাইন বাংলাদেশ থেকে প্রথমে শ্রীলংকা এবং তারপর কাতার পৌঁছান। কাতার থেকে তুরস্ক হয়ে তিনি লিবিয়ায় পৌঁছেছিলেন। এ পুরো যাত্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ করে তিনি শেষ পর্যন্ত ইতালিতে পৌঁছেছেন।
লিবিয়া থেকে ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে পৌঁছনোর এ পথ কিভাবে চিনলেন বাকের হোসাইন?
তিনি বলেন, অনেক নিউজে দেখছি যে লিবিয়া থেকে ইতালিতে যাওয়া যায়। তখন আমাদের এলাকার এক দালালের সঙ্গে চুক্তি করলাম।
বাকের হোসাইনের মতো শত-শত বাংলাদেশি গত কয়েক বছরে এভাবেই ভূ-মধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি গিয়েছেন।
আবার ভূ-মধ্যসাগরে নৌকা ডুবিতে অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে।